Skip to main content

গানে গানে রচি আমি-জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ


রাত আড়াইটে মাঘ মাসের শীতের রাত সারা মহল্লা ঘুমে নিথর শুধুমাত্র একটি বাড়ি থেকে ভেসে আসছে শব্দের তরঙ্গ পঁচিশ নম্বর  ডিকসন্‌ লেনের বাড়িটি কিরণচন্দ্র ঘোষের। সঙ্গীতমহলে জ্ঞানবাবুর বাড়ী নামে পরিচিত। আগে বাস ছিল ক্রীক্‌ স্ট্রীটে তারও আগে আমহার্স্ট স্ট্রীটে ডোয়ার্কিনের স্বত্বাধিকারী দ্বারকানাথ ঘোষের পরিবারে গান বাজনার চর্চা বহুদিনের দুই পুরুষ আগেও বাড়িতে বাদ্যযন্ত্রের বিরাট সমাবেশ ছিল। কাকা শরৎ ঘোষ বাজাতেন পিয়ানো  বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এইভাবে বড় হয়ে উঠেছে জমজমাট সঙ্গীতের পরিবেশেপড়াশোনার ফাঁকে গানবাজনাতেও  উৎসাহ পেত তারা। বাজনা বাজাতো গাইত রবিঠাকুরের গান তবুও সবার মধ্যে একটি ছেলে যেন সবথেকে বেশি  মাথা ছাড়িয়ে উঠেছে আয়তনে নয়, স্বকীয়তায় আর বুদ্ধির স্ফুরনে জ্ঞেনু ছোট থেকেই তার ঝোঁক তালবাদ্যের দিকেই অভিভাবকরা সচেতন পাখোয়াজ শিখবে জ্ঞেনু  দীনু হাজরা মশাইয়ের ডাক পড়লো তবলা চাই টোনিবাবু  আছেন তিনিই শেখাতে শুরু করলেন। কিন্তু এতো শুধু ছন্দ ! সুর কই ? সুরের সন্ধানে নাড়াচাড়া চললো  হারমোনিয়াম, অর্গান, গীটার, পিয়ানো, বেহালা নিয়ে

      তবে গানবাজনা  নিয়ে থাকলে তো শুধু হবেনা ! পড়াশোনাটাও করতে হবে। লেখাপড়ায় ও ভালো সে ।  গানের সাথে একটির পর একটি পরীক্ষার বেড়া উতরে যাচ্ছে  অনায়াসে !  বি .এ. পাশ করলেন। পালি ভাষা আর সাহিত্যের অনার্সে প্রথম শ্রেনীতে প্রথম স্থানটিও অধিকার করলেন । গান আর পড়াশোনার পাশে খেলাধুলার ও সখ  ছিল খুব।একবার খেলতে গিয়ে চোখের জন্য মাঝপথে পড়া ছাড়তে হয়। শেষ পরীক্ষাটা আর দিতে পারেননি জ্ঞানপ্রকাশ । কিন্তু এই দুঃসময়ের  কাল বেশিদিন স্থায়ী হয়নি । অদম্য ইচ্ছাশক্তি  আর আফুরন্ত প্রাণশক্তি নিয়ে সবকিছু কাটিয়ে উঠেছিলেন ।মনের মধ্যে যে তৃষ্ণা বিন্দু বিন্দু হয়ে জমে উঠেছিল তার নিবৃত্তির পথ তৈরি হয়ে উঠছিল ক্রমে ক্রমে।
                             গিরিজাশঙ্কর চক্রবর্তী 
    বাংলাদেশে তখন গিরিজাশংকর চক্রবর্তী এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন একাধারে যশস্বী সঙ্গীতশিল্পী , মহা পণ্ডিত ও আদর্শ শিক্ষাগুরু। শিক্ষাদানে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। তাঁরই কাছে শিষ্যত্ব গ্রহন করলেন জ্ঞানপ্রকাশ সাধনার আর খামতি নেই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নিলেন মেহেদী হোসেন খাঁ, মহম্মদ সগীর খাঁর কাছে এমনকি ওস্তাদ খুশি মহম্মদের  কাছে হারমোনিয়াম শিক্ষার কলাকৌশলও বাদ দিলেন না। নিজেকে  মেজে ঘষে উজ্জ্বল করে তুলছেন নিয়মিত অনুশীলন আর চিন্তাশক্তি দিয়ে একদিকে গান আর অন্যদিকে তবলার পাঠ নিচ্ছেন মসিদ খাঁ, আজমীরের আজিম খাঁ  আর পাঞ্জাবের ফিরোজ খাঁর কাছে রেওয়াজ চলছে জোর কদমে এমনি ভাবেই সঙ্গীতের মধ্যে ডুবে যাচ্ছেন  ক্রমে ক্রমে


তবলা-জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ
 দিবা রাত্রের চিন্তা, সাধনা, অধ্যয়ন সব মিলে এক নতুন দিগন্তের সন্ধান এনেছিল  জীবন জুড়ে । নিজের গানের সাধনা, সঙ্গীতশাস্ত্রের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে গান কি ভাবে রসসমৃদ্ধ হয়ে ওঠে সে বিষয়ে তাঁর চলতো নিরলস প্রচেষ্টা। তিনি ভাবতেন গান গেয়ে যে সম্পদ  তিনি  লাভ   করেছেন তা যদি উত্তরসুরীদের  কাছে পৌঁছে  না দেওয়া যায় তাতে সঙ্গীতের পরম্পরা  বজায় থাকবে না ।সেখানে  নিজের শিক্ষা অর্জন  মুল্যহীন হয়ে পড়বে ।তাই সারা জীবনে নতুন শিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে সবসময় চলতেন। দূর বহুদুর থেকে তাঁর শিক্ষার্থীরা আসতেন তাঁর কাছে।  বিপাকে-বিপদে  পড়লে সারাক্ষন পাশে থেকে সাহায্য করেছেন তাদের। নবাগত শিল্পীদের উন্নতির পথ করে দেওয়া ছিল তাঁর মনের বাসনা । এমনিভাবে শিক্ষাদানের পাশাপাশি  সামান্য অবসরে চলতো তাঁর নিজের সাধনা,  গীতরচনা  আর  সুররচনা । এই দ্বৈত ভুমিকা তাঁর মনে এনে দিত এক পরম তৃপ্তি।
১৯৩২ সালের হিন্দুস্থান রেকর্ড ক্যাটালগ
        সঙ্গীত জীবনের প্রথম লগ্নে  তিনি রেকর্ডে বাদ্যযন্ত্র সহযোগী  হিসাবে অবতীর্ন হয়েছিলেন। ১৯৩২ সালে হিন্দুস্থান রেকর্ড থেকে প্রকাশিত শ্রীমতী  সন্তোষকুমারী ও মিস্‌ মনোরমা  দুটি নৃত্যসম্বলিত  গান পরিবেশন করেন। এই গানে বাদ্যযন্ত্র সহযোগীতা  দিতে হরিপদ চট্টোপাধ্যায়, অনুপম ঘটকের সাথে আসেন এক নবীন প্রতিভা জ্ঞান ঘোষ(রেকর্ড লেভেলে  তাই লেখা থাকতো প্রথম দিকে)।গান দুটি ছিল 'তোমারি  বাঁশি বাজবে থেকে থেকে/আর 'আজি ফুলেরি  বনে(H 17):   কথা- শৈলেন্দ্রলাল রায়, সুর-কৃষ্ণচন্দ্র দে। 
     তবে বাদ্যযন্ত্রী হিসাবে  হিন্দুস্থান রেকর্ড কোম্পানিতে  যুক্ত  থেকেও নিজের সুরে গান বা স্বকণ্ঠে কোনোও গান রেকর্ড করতে পারছিলেন না।তবে জানা যায় জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের সুরের প্রতিভা প্রথম রেকর্ডে এলো এইচ. এম. ভি. থেকে  ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত মিস্‌  সুভাষিণীর  গান দিয়ে। গান দুটি  ছিল ‘তুমি শুধু গাও গান(গজল) /দিন কেটে যায় কি বেদনায়(রাগপ্রধান)[N 7162]। এরপর তিনি ঐ বছরের শেষের দিকে তাঁর স্বকণ্ঠে গান রেকর্ড করেন  এইচ. এম. ভি.  থেকে প্রখ্যাত শিল্পী হরিমতীর সাথে। 
এইচ.এম. ভি. প্রচার পুস্তিকা ১৯৩৩

জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের প্রথম রেকর্ড
একপিঠে ছিলো  সীতারাম ভজন (রাম আমারি রাজা) ..( কথা-সুধীরচন্দ্র সরকার)  আর উল্টোপিঠে   “ রাধাকৃষ্ণ ভজন..(রাধাকৃষ্ণ ভজ মন রে) (কথা-ধীরেন্দ্রনাথ পাল চৌধুরী) [N 7252] এর পর থেকে সারা সঙ্গীত জগৎ মুখরিত হতে থাকলো  তাঁর গান আর বাদ্যে। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৭ সাল পর্যন্ত এইচ.এম.ভি. থেকে তাঁর স্বকণ্ঠে একাধিক গান প্রকাশ পায় যাদের মধ্যে “ওগো লক্ষ্মী মা আমার/ শ্যাম বরণা রূপরাণী (১৯৩৪), নরনারায়ণ মুরতি তোমার (১৯৩৫),আনমনে মোর দিন কেটে যায়/দূরদেশীনি অচেনা মেয়ে (১৯৩৬), ওরে ও তীর্থ পথিক/মানুষকে তুই ভুলিসনে( সহশিল্পী-চিন্ময়ী ঘোষ)[১৯৩৭] উল্লেখযোগ্য.. 
 গান আর সুর রচনার পাশাপাশি নীরব ভাবে বিভিন্ন গানে অসম্ভব দক্ষতায় রেকর্ডে গানের সাথে  তবলা আর গীটার বাজিয়েছেন । আমদের দেশে রেকর্ড সঙ্গীতে musical arrangement এ  গীটার প্রয়োগ পরিকল্পনা তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন এবং তার সামান্য একটু আলোকপাত করলে বাঙালী সঙ্গীতরসিককুল বিষ্ময়বোধ করবেন। কেননা সাধারন শ্রোতার কাছে তা আজ প্রায় বিষ্মৃত।
    ১৯৩৫ সালে শচীনদেব বর্মণ প্রথম প্লেব্যাক করেন ‘সাঁঝের পিদিম’ ছবিতে। গীতিকবি  অজয় ভট্টাচার্যর কথায় সেই বিখ্যাত গান ‘ওরে সুজন নাইয়া/ নিশীথে যাইয়ো ফুলবনে.. গানে গীটারের অনবদ্য ঝংকার তুলেছিলেন জ্ঞানপ্রকাশ  ।
   ১৯৩৬ সালে সাবিত্রী ঘোষ(চামেলী)  হিমাংশু দত্তর সুরে প্রথম রেকর্ড করেন  বং সঙ্গীতমহলে সেই  গান আলোড়ন সৃষ্টি করে। এইচ. এম. ভি. থেকে প্রকাশিত “নিশীথে চলে হিমেল বায়(কথা-মমতা মিত্র) /বেদনাতে বিজড়িত গান(কথা-বিনয় মুখোপাধ্যায়) ( N 9802) গান দুটির  পিছনে গীটারে ছিলেন জ্ঞানপ্রকাশ ।  হিমাংশু দত্তর কেবল  এই দুটি গান নয়, তার বহু বিখ্যাত গানে যেমন  'আঁখিতে ভরিয়া জল, 'ফাগুন এলো বুঝি, 'ছিল চাঁদ মেঘের পরে, 'তোমারি পথপানে চাহি,'আকাশের চাদ মাটির ফুলেতে.. ইত্যাদি গানে   তাঁর গীটার বাদন এক অসাধারন প্রতিভারই পরিচায়ক। রবীন্দ্রসঙ্গীতেও  তিনি গীটার  বাজিয়েছেন। ১৯৩৬ সালে একেবারে গোড়ার দিকে প্রকাশিত রবীন্দ্রমোহন বসুর গানে  গীটার বাদক হিসাবে তাঁর নাম রেকর্ড লেভেলে  জ্বলজ্বল করে লেখা আছে।  গান দুটি ছিল তার মধ্যে  ‘ হীমের রাতে ওই গগনের দীপগুলিরে/রাঙিয়ে দিয়ে যাও ..(H 320).. রবীন্দ্রমোহন ছিলেন জ্ঞান ঘোষের প্রতিভার গভীর অনুরাগী  । তাঁর প্রায়  প্রতিটি  গানের  রেকর্ডে তবলা সঙ্গতে থাকতেন তিনি। ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত  সুরসাগরের  ‘ নিতি রাতে কে ডাকে আমায়)[কথা- বিনয় মুখোপাধ্যায়]/বুঝি কথাটি মম(কথা- অজয় ভট্টাচার্য](H 561) রেকর্ড লেভেলে তবলাবাদকরূপে তাঁকে দেখা যায়। এছাড়া ১৯৩৬ সালে শচীনকর্তার গাওয়া সুরসাগরের সুরে  'মম মন্দিরে এল কে/নতুন ফাগুনে আজি(H 412) গান দুটিতেও তবলা সঙ্গতে ছিলেন তিনি.. এইভাবে তিরিশের দশকে সুরের সাথে  যুক্ত থাকলেন প্রসিদ্ধ  গীটার ও তবলাবাদকের প্রধান ভুমিকায়।


      জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ প্রথম সিনেমায় সঙ্গীত পরিচালনা  করেন ১৯৩৬ সালের একটি স্বল্প দৈর্ঘের  ছবি ‘কুহু ও কেকা’ তে ।প্রসঙ্গত এই ছবিতেই কণ্ঠশিল্পী হিসাবে প্রথম আবির্ভাব হন বিষ্মৃতপ্রায় শিল্পী  গৌরিকেদার ভট্টাচার্য ।যশোরের  বিখ্যাত শিল্পী বেলারাণী সেন এবং তারাপদ ভট্টাচার্য  এই সিনেমায় গেয়েছিলেন ’ মাধবী পূর্ণিমা নিশিথে...(H 416) । ১৯৪৩ সালে নিতীন বসু পরিচালিত ‘ বিচার’ (১৯৪৩)  ছায়াছবিতেও  তিনি সুরা্রোপ করেন প্রনব রায়ের লেখা  গানে । ছবিতে মুখ্য প্লেব্যাক শিল্পী ছিলেন রাধারাণী(ছোট)। আর অন্যান্যরা ছিলেন ভারতী মজুমদার, বিজয়া দাশ প্রমূখ । 

জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ সুররোপিত ছায়াছবি ' বিচার'
এছাড়া পঞ্চাশের দশকে ‘যদুভট্ট’(১৯৫৪), ‘আঁধারে আলো’(১৯৫৭) ,’বসন্ত বাহার’(১৯৫৭), রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত( ১৯৫৮) ছায়াছবিতে জ্ঞানপ্রকাশ  ঘোষকে  মুখ্য সঙ্গীত  পরিচালকের ভুমিকায় তাঁকে দেখা যায়।
       এবার তাঁর সুরারোপিত আরও কিছু  গানের কথায় আসি। ১৯৩৪ সালে অন্ধগায়ক গোপালচন্দ্র সেন গাইলেন 'মন যে বলে চিনি চিনি/নিদহারা চাঁদ জাগে গগনে (N 7271), সত্যেন ঘোষাল গাইলেন 'আসিবে কি ফিরে সখি(কথা-নীলমণি ঘোষ)/স্বপনে দেখিনু(কথা-জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ) ।  ১৯৩৭ সালে নীলমণি সিংহ র গাওয়া কাজী নজরুল ইসলামের ' আদরিণী মোর কালো মেয়েরে [আদরিণী মোর শ্যামা মেয়েরে](N 9853] গানেও  সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। 
         এছাড়া  পঞ্চাশ ও ষাটের  দশকে তাঁর সুরে গাওয়া দুজন শিল্পীর গান উল্লেখ করতেই হয়। একজন তাঁর সহধর্মিনী ললিতা ঘোষ। মেগাফোন রেকর্ড থেকে ১৯৬২ সালে ললিতা ঘোষ গেয়েছিলেন ' রাধে কৃষ্ণ বল (কথা- গোপাল দাশগুপ্ত)/চল মন গঙ্গা যমুনা তীর(কথা-জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ) [JNG 6120] আর ১৯৬৩ সালে  ‘গান আমার পরশমনি(কথা-জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ) ,আর উল্টোপিঠে ’ সারা বেলা  ধরে ,কানে কানে মোরে (কথা- শ্যামল গুপ্ত)[JNG 6139] । এছাড়া তাঁর গাওয়া   'পিয়া পিয়া বোলে(শ্যামল গুপ্ত)/এ কি আনন্দে দোলে এ জীবন (কথা-পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়) [JNG 6202]  আজ প্রায় অধরাই থেকে গেছে সাধারন শ্রোতার কাছে।  আরেকজন হলেন বাণী কোনার(সরকার) ।  কলম্বিয়া রেকর্ড থেকে প্রকাশিত ' কোয়েলিয়া গান থামা(রাগপ্রধান) /‘কূল ছেড়ে এসে মাঝ দরিয়ায় ..(১৯৫৪).([GE 24716]  এবং 'আনন্দ ভরা এই সুন্দর ভুবনে(কথা-জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ)/ আজি দুখ নিশিভোর(কথা- জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ)[ GE 24787] সঙ্গীতরসিক শ্রোতা এবং শিল্পীদের কাছে এখনোও সমান ভাবে সমাদৃত।
একটি বিশেষ রেকর্ড: শিল্পী- মানবেন্দ্র মুখার্জী, প্রতিমা ব্যানার্জী ও বাণী ঠাকুর

 বেতারে যুক্ত ছিলেন বহুদিন। বেতারে লাইট মিউজিক ইউনিটের অন্যতম প্রযোজক তিনিএছাড়া “সুগম সঙ্গীত”  অনুষ্ঠানের তিনি ছিলেন কর্ণধার। এরপর জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষেরই পরিকল্পনায় বেতারে শুরু হয় “এ মাসের গান”, “রম্যগীতি”র মত সব জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। বেতারে বহু অনুষ্ঠান হয়েছে, গানও শুনিয়েছেন কিন্তু তার কোনও রেকর্ড নেই।  
      প্রায় ছয় দশক ধরে  যন্ত্রসঙ্গীত ও কণ্ঠসঙ্গীতে নিজের সাধনার সাথে সাথে উত্তরসূরীদের  জায়গা দিয়ে ১৯৯৭ সালের ১৮ ই ফেব্রুয়ারী স্বর্গলাভ করেন এই সুরনায়ক। মধ্য কলকাতার সেই পুরনো গলিটা আজও আছে। আছে সেই ইমারটি। পথচলতি অনেক সঙ্গীতরসিক মানুষের মনে করায় সেই পুরনো দিনের ছবিগুলি। মাঘ মাসের শীতের রাত। দেড়টা, দুটো, আড়াইটে সারা মহল্লা ঘুমে নিথর। শুধু একটি বাড়ি থেকে ভেসে আসছে শব্দের তরঙ্গ.......
                                                                                               



দ্রঃ এই নিবন্ধের কোনও অংশ ভবিষ্যতে কেউ ব্যবহার করলে তা লেখকের অনুমতিসাপেক্ষ



                                                                                                          

Comments

Popular posts from this blog

মরমিয়া বাঁশি- অখিলবন্ধু ঘোষ (২০.১০.১৯২০-২০-০৩-১৯৮৮)

" বা ড়িটা আমার অনেক দিনের চেনা । প্রায় তিরিশ বছর । নোনা ধরা পুরোনো বাড়ি । তিরিশ বছরে অনেক কিছু বদলে গেছে । বদলায়নি বাড়িটার চেহারা । এই জীর্ণ প্রাসাদে প্রায়ই সুর ভেসে ওঠে । ঠিক তখন মনে হয় বাড়িটা যে ধ্বসে পড়েনি , তার কারণ মনে হয় সুরের গাঁথুনি । যিনি সুরসাধক তাঁর কাঁচা চুল পাকা হয়েছে , দাঁত অন্তর্হিত — কিন্তু সুর অনড় । গান ধরলেই বিবর্ণ দেওয়ালে রামধনুর রঙ । হলুদ পাতায় সবুজ শিরা ।"    ১৯৮৫ সালে    ‘ সুকন্যা ’ পত্রিকায় লিখেছিলেন মানব গুপ্ত ছদ্মনামে  তাঁর এক ছাত্র।                                  সাধকের নাম অখিলবন্ধু ঘোষ । নামটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে যেন হৃদয়াকাশে   ভিড় করে আসে এমন সব গান , যে গান শুনতে চেয়ে ছে মন   বার বার   - ‘ তোমার ভুবনে ফুলের মে লা’ ,  ‘ কেন তুমি বদলে গেছ’ , ‘ এমনি দিনে মা যে আমার হারিয়ে গেছে ‘। যেন কোনো এক উদাসীন বাউল গেয়ে চলেছে যুগের পর যুগ ধরে যা র সঞ্চরণ   এখনোও কান পাতলে শোনা যায় । তাঁর গানের সহজ সরল ...

হরেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৯৮-১৯৬২)

      দ ত্ত পরিবার হাওড়ার রামকৃষ্ণপুরের প্রাচীন বাসিন্দা। পিতা মহেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন বিহার ও উড়িষ্যা প্রদেশের Executive Engineer । কিন্তু সংস্কৃতি ও সঙ্গীত চর্চায় তাঁর খামতি ছিলোনা। তিনি যে সঙ্গীতরসিক প্রমাণ পাওয়া যায় তাঁর রচিত ' আত্ম কাহিনী  '   , '  উন্মীলন সঙ্গীত “ এবং ' সমাজ চিত্র'   প্রভৃতি গ্রন্থ থেকে। পুত্র হরেন্দ্রর গানের গলা আছে দেখে মহেন্দ্রনাথ    তাঁর জন্য সঙ্গীত শিক্ষার ব্যাবস্থা করেন খুব ছোট থেকেই। সেই সময়ে রাঁচীর মোরাবাদী পাহাড়ের কাছে মহেন্দ্রবাবু দুটি বাড়ি করেন। আর যার অদুরেই ছিলো জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘ শান্তিধাম'   নিবাস । তাই দত্ত পরিবারের সাথে শান্তিধামের যোগাযোগ ও ঘনিষ্টতা তৈরী হয়েছিলো প্রথম থেকে ই । ইন্দিরা দেবী চৌ ধুরাণী প্রমুখ অনেকেই রাঁচীতে যেতেন যার ফলে হরেন্দ্র খুব  অল্প বয়স থেকে ব্রহ্মসঙ্গীত এং রবীন্দ্রসঙ্গীত শোনার ও শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন । এমনকি রাঁচীতে অনুষ্ঠিত জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি নাটকেও তিনি অংশ নেন।         ১৯১৫ সালে হরেন্দ্রনাথ চি...

প্রভু তোমারি রূপের মাধুরী 💮 গীতশ্রী ছবি বন্দ্যোপাধ্যায়

আ লিপুর , গড়িয়াহাট বা শ্যামবাজারের কোন সম্ভ্রান্ত বাড়িতে সমবেত হয়েছেন শিক্ষিত ভদ্র মানুষেরা।ঘরে পট , প্রতিকৃতি দেবতার আর দেবতুল্য মানুষদের। ধুপদানিতে ধুপ জ্বলছে , টানা ফরাস পড়েছে ঘর জুড়ে। বড়দের সঙ্গে ছোটরাও এসেছে  অনেকে। উত্‍কণ্ঠা সবার , আসবেন তিনি। গাইবেন গান , পদাবলী কীর্তন। তিনি এলেন। পরনে সাদা সরু পাড় ধুতি , গায়ে সাদা চাদর , চোখে চশমা। সর্বাঙ্গে না কোনো প্রসাধন না কোনো অলঙ্কারের চিহ্ন। মাথা নীচু আর শান্ত পায়ে ঢুকলেন। তারপর টেনে নিলেন হারমোনিয়ামটা।  সঙ্গে গুরুভগ্নী , ছাত্রীরা। তারাও প্রস্তুত ছিলোনা মোটে । না , আজ কোনও পদাবলী কীর্তন নয়। আজ শুধু নামগান। যদিও আজ সোমবার , মৌন থাকার দিন। কিন্তু ঈশ্বরের নাম তো সবদিনই নেওয়া যায়! তাই বাধা নেই।                                                       মধুর উদাত্ত স্বর।ঋজু ভঙ্গিতে বসে রইলেন একই ভাবে !চোখের পাতা একবারও খুললেন না। শান্ত ভাবে গেয়ে চলেছেন 'হরে কৃষ্ণ, হ...